দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য কৌশলগত নীতি প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ‘পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ: শিল্পায়নের এক নতুন সীমানা’ শীর্ষক সেমিনারে এ-সংক্রান্ত পরামর্শ দেন গবেষক, অর্থনীতি, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তারা। আইবিএফবির সাবেক সভাপতি হুমায়ুন রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। তিনি তার ‘বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও জাহাজ রফতানি: রফতানি বৈচিত্র্যের সীমান্তগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, ‘চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ অনেক দেশ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের উন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশেও এ শিল্প বিকাশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য অন্যান্য রফতানি পণ্যের নীতির মতো স্বতন্ত্র নীতি প্রয়োজন।’
ড. জাইদি সাত্তার এ খাতের বাণিজ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক জাহাজ নির্মাণ বাজারের আকার ১৫৫ বিলিয়ন ডলারের। ২০৩০ সালে এটি ১৯৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশাল এ বাণিজ্যের বড় অংশ দখল করে রেখেছে চীন, যা মোট বাণিজ্যের ৫৬ শতাংশ।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ কমিয়ের আনার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। তাই যে দেশগুলো পরিবেশবান্ধব জাহাজ তৈরি ও রফতানি করতে পারবে, তারাই সামুদ্রিক অর্থনীতির নেতৃত্ব দেবে।’
জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে আইবিএফবির পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এ শিল্পকে এগিয়ে নিতে একটি কৌশলগত নীতি তৈরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা যদি বৈশ্বিক বাণিজ্যির এক শতাংশও নিজেদের করে নিতে পারি তাহলে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাণিজ্য করতে পারবো।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার অর্থবিষয়ক বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এ শিল্পের উন্নয়নে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংক ঋণ সহজ করতে হবে। এছাড়া ব্যাংক খাতে রিফান্ড গ্যারান্টি ও বীমা নিশ্চিত করতে হবে।’
সেমিনারে আইবিএফবির পরিচালক সভাপতি লুতফুন নিসা সৌদীয়া খান, অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আইবিএফবির সাবেক সভাপতি মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী ও হাফিজুর রহমান খানসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।